পাহাড়ে যেকোন ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে: ব্রি. জেনারেল একেএম সাজেদুল ইসলাম


মোঃ আবুল হাসেম,মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি•


শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়নে পুর্বোক্ত রিজিয়ন কমান্ডারদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে অপ-প্রচারের মাধ্যমে পাহাড়ে সম্প্রীতি বিনষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন সকলকে অপ-প্রচার থেকে বিরত ও সজাগ থাকতে হবে। কোন ধরনের অপ-প্রচারে কান দেয়া যাবেনা। পাহাড়ে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পর্কে আমি জ্ঞাত রয়েছি। দুস্কৃতিকারীদের কোন ধরনের ছাড় নেই। অবৈধ অস্ত্র বহনকারী এবং ব্যবহারকারীদের দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। যেকোন ধরনের সন্ত্রাসী  তৎপরতাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা জোন সদরে বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রাইসুল ইসলাম পিএসসি মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নে জাতিগত বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, সবুজ পাহাড়ে বসবাসকারীদের মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে। প্রতিটি মানুষকে মানবিক হতে হবে। শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াবোধ বাড়াতে হবে। নিজেদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষার মান বেড়েছে, মানুষে মানুষে বৈষম্য কমেছে। সকলেন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এসব ধরে রাখতে হবে। সন্ত্রাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাকে বিরক্ত করবেন না, আমাকে নানা ভাবে বিরক্ত করলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। নিরাপত্তা আর উন্নয়ন একে অপরের পরিপুরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা অনেক বেশী জরুরী। উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে প্রচেষ্ঠা সফল হতে দেয়া হবেনা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম, গোত্র বা বর্ণ নেই। তাদের একটাই পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। সবুজ পাহাড়ে সম্প্রীতির সাথে যারা বসবাস করছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, অপারেশন উত্তোরনের আওতায় মাটিরাঙ্গা জোন মাটিরাঙ্গায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আগের মতোই কাজ করবে। এজন্য মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। সেনাবাহিনীকে জনবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে পরিবার পরিজনকে দুরে রেখে এ জনপদের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে সেনাবাহিনী। মতবিনিময় সভায় মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ইমরাউল কায়েস ইমরুল পিএসসি, জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর মাজহারুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মো. জাকির হোসেন, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. শহীদুল ইসলাম এবং মাটিরাঙ্গা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর মো. আবুল হাসেম ভুইয়া ছাড়াও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিক ও হেডম্যান কার্বারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত