ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্য খালাসে তীব্র শ্রমিক সংকট,ব্যবসায়ীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা


শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ •


সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্য খালাসে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারীত ফি পরিশোধ করেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে শ্রমিক আনিয়ে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে। নিজ উদ্যোগে পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের ট্রাকপ্রতি আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে।  ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ ট্রাক পাথর খালাস হয়। এসব পাথর খালাসের সময় শ্রমিক পাওয়ার জন্য ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। কিন্তু ফি পরিশোধের পরও কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না। ট্রাকপ্রতি আরো আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে নিজ উদ্যোগে শ্রমিক আনিয়ে পাথর খালাস করতে হয়।

এদিকে ভোমরা স্থলবন্দরের অপর এক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গণি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঘোষ জানান, তারা বিভিন্ন ধরনের কৃষিজ পণ্য আমদানি করেন। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে হয়। কিন্তু সরকারি ফি জমা দিলেও তাদের শ্রমিক খরচ হিসেবে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হয়। এতে ট্রাকপ্রতি আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়। শুধু রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বা অশোক কুমারই নন, ভোমরা বন্দর ব্যবহারকারী সব ব্যবসায়ীকেই পণ্য খালাসের সময় অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২৮০ থেকে ৩০০টি পণ্যবাহী ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এ হিসাবে পণ্য খালাসের সময় প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যবসায়ীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, ভোমরা স্থলবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। এসব ট্রাকের পণ্য খালাসের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন্দরের শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রব কমিউনেকেশন লিমিটেডের কাছে টনপ্রতি ৭৭ টাকা হিসেবে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা করে জমা দিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক দিয়ে পণ্য খালাস করিয়ে দেবে। কিন্তু টাকা নেয়ার পরও তারা শ্রমিক দেয় না। ব্যবসায়ীরাও বাধ্য হন নিজ উদ্যোগে বাড়তি খরচে পণ্য খালাস করতে। এ বিষয়ে ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো.আব্দুল জলিল জানান, পণ্য খালাসের জন্য সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী টনপ্রতি ৭৭ টাকা হারে ফি নেয়া হয়। এর পরও টাকাপয়সা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ড্রব কমিউনেকেশনের প্রতিনিধি ফকরুল আলমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পণ্য খালাসের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকা নেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসের জন্য লেবারদের টাকা দেন কিনা, তা আমরা জানি না। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্ব থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মো.রেজাউল হক জানান, বিষয়টিতে কাস্টমসের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় কোনো মন্তব্য করা যাবে না। এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
মতামত