এমবিবিএস পাস না করেও ডাক্তার: বরুড়ায় বাড়ীতে ক্লিনিক খুলে সন্তান প্রসব করান ভূয়া ডাক্তার তাছবিহা ও স্বামী শাহজালাল


বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি •


কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ী (দঃ) ইউনিয়নের শিলমুড়ী গ্রামে ডাক্তার বাড়ীতে ক্লিনিক খুলে গর্ভবতি মায়েদের সন্তান প্রসব করান তাছবিহা আক্তার (২৫)। তিনি এমবিবিএস পাস না করেও ডাক্তার। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাছবিহা আক্তার ডাক্তার পরিচয়ে বিভিন্ন বাড়ী গিয়ে সন্তান প্রসব করাতেন। এটি খুব লাভজনক হওয়ায় স্বামীর সহযোগীতায় শশুর বাড়ীতে বসত ঘরের একটি কক্ষে ২টি ব্যাড ১ টি অকসিজেন বোতল ও ইমারজেন্সী নরমাল ডেলীবাড়ী ও সাইট অপারেশন করে সন্তান প্রসবের পর যাবতীয় ঔষধ সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্টক করে রাখেন। এটি একটি ছোট খাটো ক্লিনিক বললেই চলে। সে নিজেকে স্ত্রী ও প্রসুতী বিদ্যা অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে দাবী করে। তাছবিহা আক্তাররের কাছে ডাক্তারী সনদ দেখতে চাইলে সে দেখাতে পারেনি। সে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ডি.এম.এস.সি.এইচ-ঢাকা ও এক্স.পি.টি. কোর্স করেছে বলে জানান।

এছাড়াও স্বামী শাহজালাল (ফরহাদ) সেও এমবিবিএস পাস না করে শিলমুড়ী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নামের আগে ডাক্তার ডিগ্রী লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। কোন ড্রাগ লাসেন্স ছাড়াই ঐ বাজারে অবৈধ ফার্মেসী খুলে ব্যবসা করে আসছে। সে একই ফার্মেসীতে পশু ও মানুষের ঔষধ বিক্রি করছে। যা কোনভাবেই বোধগম্য নয়। শাহজালাল মানুষ ও পশু‘র চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসার নামে মানুষকে দীর্ঘদিন অপচিকিৎসা প্রদান করে আসছে। সে নিজেকে মেডিসিন, বাত, চর্ম ও শিশু রোগে অভিজ্ঞ ডাক্তার বলে দাবী করে। সেও কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ডি.এম.এস.সি.এইচ-ঢাকা ও এক্স.পি.টি. কোর্স করেছে বলে জানান। তিনি ও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এব্যাপারে শাহজালাল বলেন, আমার নামে আগে ডাক্তার লেখা বৈধতা আছে। সরকার যদি আমাদের নোটিশ করে তাহলে আমরা নামের আগে ডাক্তার লিখবো না। এবিষয়ে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও ফারুক আহম্মেদ জানান, সিভিল সার্জন কর্তৃক নিয়োগকৃত (সাকমু) ডাক্তার সহকারী তারাও কোন প্রেসকেপশন করতে পারবে না। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন- ২০১০-এর ২৯ ধারা অনুযায়ী ন্যূনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকলে ডাক্তার পদবি লেখা যায় না। আমারা বিষয়টি দেখবো। ঘটনার সত্যতা পেলে দুইজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

মতামত