পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল

সাইফুল ইসলাম বাবুল পেকুয়া প্রতিনিধি • পাহাড়ি দ্বীপ সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ছোট এ তিনটি দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে মহেশখালী উপজেলা । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এ দ্বীপের চেহারা এবং এলাকার বাসিন্দাদের ভাগ্য বদলে যাবে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই । মহেশখালীতে বাস্তবায়ন হচ্ছে জ্বালানি খাতের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল এক এনার্জি হাব।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যে মতে, এখানে তৈরি হবে ছয়টি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তিনটি এলএনজি টার্মিনাল। জ্বালানি তেল পরিবহনে করা হচ্ছে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল। কয়লা খালাসের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে বড় টার্মিনাল। আর এসব প্রকল্প বান্তবায়ন হলে এ এলাকায় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মহেশখালীর এনার্জি হাব বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৫ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার বেশ কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে পরিমাণ কয়লা প্রয়োজন তা আমদানি করা হবে। জাহাজে আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে সাগরের কাছেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। আর সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা যদি সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হয় তাহলে আগামী এক দশকেই মহেশখালীতে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এ অঞ্চলে নির্মাণ হবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এজন্য মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ মূলধনি কোম্পানি গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড । এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তেনেগা ন্যাশনাল বারহেড ও পাওয়ারটেক বারহেডের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পিডিবির এ চুক্তি হতে যাচ্ছে।

এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এরই মধ্যে পিডিবি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করেছে। এ ছাড়া মহেশখালীতে ৭০০ মেগাওয়াটের আরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা । সরকার ও এডিবির অর্থায়নে মাতারবাড়ীতে ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের আরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর বাইরেও এখানে আরও বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।

বর্তমানে দেশে চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি আছে। আর এ ঘাটতি মেটাতে মহেশখালীর উপকূলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রছাড়াও এলএনজি টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরে এ টার্মিনাল থেকে প্রতিতদিন ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। আগামী বছর থেকে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপও মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ, রিলায়েন্স বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে চায় আর সরবরাহকৃত এলএনজি গ্যাস দিয়েই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ককেরতে আগ্রহী। সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপও মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।

সমুদ্রের জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং টার্মিনাল (এসপিএম) গ্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মহেশখালীতে। ডাবল পাইপলাইনসহ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মহেশখালীতে যেসব অবকাঠামো গড়ে উঠছে তা বাস্তবায়ন হলে এ দ্বীপটিই হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল।

মতামত