দর্শনার্থীদের আগমনের অপেক্ষায় প্রস্তুত,শ্রীপুরের বিনোদনকেন্দ্রগুলো

আফজাল হোসেন,শ্রীপুর প্রতিনিধি • ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীতকালকে ঘীরে থাকে ভ্রমনপিপাসুদের পথচলা।তারই আগমনি বার্তা যেন পৌছেছে প্রকৃতি ও শিল্প নগরী গাজীপুরের শ্রীপুরে।

জেগে ওঠেছে বিভিন্ন পার্ক ও রিসোর্টগুলোর কর্মীরা। তারা এখন ব্যস্ত দিন পার করছে সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিচর্চায়। গাজীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪ কিমি উত্তর-পূর্ব দিকে শ্রীপুর উপজেলার অবস্থান। এখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ৩০-৪০টি পার্ক ও রিসোর্ট। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীন পরিবেশে গড়ে ওঠেছে এসব পার্ক ও রিসোর্টগুলো। যা এখন প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমন পিপাসুদের পরম শান্তির জায়গা। প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রতিবছরই এই সকল পার্ক ও রিসোর্টগুলোতে এসে থাকেন।

 

রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়াতে সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে এই রিসোর্টগুলো। এসব রিসোর্টে শুধু সাধারন মানুষই আসেন না, এখানে দেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কনফারেন্স এর আয়োজন করে থাকেন।

শ্রীপুরের অন্যতম একটি রিসোর্ট হল ড্রীম স্কয়ার রিসোর্ট।আজুগিরচালা গ্রামে প্রায় ১২০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই রিসোর্টটি।এখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ,বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে রিসোর্টটি। সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন সবার মন কাড়ে।

ড্রীম স্কয়ার এর ভেতরে আকর্ষনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের ঘানি,ডেইরী ফার্ম,মৎস হ্যাচারী,কম্পোস্ট সার তৈরীর প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট। এই রিসোর্টটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট হল এখানকার রেষ্টুরেন্ট এর খাবারের সকল উপকরন এখানেই উৎপাদন করা হয় যা সম্পূর্ন কীটনাশক ও বিষমুক্ত। এখানে অতিথী পাখিদের জন্য তৈরী করা হয়েছে অভয়াশ্রম যা শীতকালে আসা বিদেশি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়াও শ্রীপুরে রয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক,নুহাশ পল্লী,ভাওয়াল রিসোর্ট,গ্রীন ভিও রিসোর্ট,ইকো রিসোর্ট,পুষ্পদাম রিসোর্ট,রাঙ্গামাটি,নক্ষত্রবাড়ী,সী-গাল পার্ক সহ ছোট বড় অসংখ্য পার্ক ও রিসোর্ট।রাতের বেলা এসব পার্ক ও রিসোর্টগুলোতে জোনাকির আলো,ঝিঁ-ঝিঁ পোকার ডাক,শিয়ালের হাঁক,ও রাতের চাঁদ উপভোগ করার মত।কেউ কেউ এই রিসোর্ট ও পার্কগুলোকে ঘীরে চালাচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা।

শিল্পনগরী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর হতে পারে এক সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প।প্রয়োজন শুধু একটু পৃষ্টপোষকতার।

মতামত